বিশেষ প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিনিধি।।
পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাকাণ্ডে এফবিআই নজরদারির নথি প্রকাশ করেছে। ১৯৬৮ সালে তাকে হত্যা করা হয়। তিনি যে নাগরিক অধিকারের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তারা এবং তার পরিবার এসব নথি প্রকাশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। কিন্তু তা উপেক্ষা করে দুই লাখ পৃষ্ঠার ওই নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিয়েছে প্রশাসন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। ১৯৭৭ সালে এফবিআই এই নথি সংগ্রহ করে জাতীয় আর্কাইভে জমা দেয়। আদালতের নির্দেশে সেগুলো সিলমোহরযুক্ত রাখা হয়। মূলত ২০২৭ সালে এগুলো প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও বিচার বিভাগ আগেভাগে প্রকাশের অনুমতি চেয়ে তা উন্মুক্ত করে। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সন্তান মার্টিন লুথার কিং তৃতীয় ও বার্নিস কিং আগে থেকে নথিগুলো পর্যালোচনার সুযোগ পান। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, আমাদের বাবাকে জীবিত অবস্থায় এফবিআই ও জে. এডগার হুভারের নেতৃত্বে গভীরভাবে শত্রুতাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার শিকার হতে হয়েছিল। এই নজরদারি ছিল শুধু গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ নয়, বরং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মর্যাদা ধ্বংসের একটি উদ্দেশ্যমূলক চেষ্টা।
তারা অভিযোগ করেন, কিং জুনিয়রের হত্যাকাণ্ডে সরকার-সম্পর্কিত অজ্ঞাত সহযোগীদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা আছে। ১৯৯৯ সালে একটি দেওয়ানি মামলায় মেমফিসের একটি জুরি রায় দেয় যে কিং ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। এদিকে নাগরিক অধিকার নেতা রেভারেন্ড আল শার্পটন বলেন, ট্রাম্পের এই নথি প্রকাশ স্বচ্ছতা বা ন্যায়বিচারের জন্য নয়, বরং এপস্টিন নথি ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরানোর কৌশল। কিং সেন্টারও জানায়, এই সময়টিতে এমন পদক্ষেপ অসঙ্গত ও বিভ্রান্তিকর। কারণ দেশ ও বিশ্ব নানা সংকটে জর্জরিত। কিং পরিবার নথিগুলো সহানুভূতি, সংযম ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছে, যেন এগুলো ব্যবহার করে কিংয়ের উত্তরাধিকার ক্ষুণ্ন বা বিকৃত না করা হয়।